Sale!

মহাপ্রস্থানের পথে

Original price was: ₹250.00.Current price is: ₹210.00.

উত্তরভাষণ
ভারতীয় সংস্কৃতির একটি প্রধান পরিচয় ভারতবর্ষের অসংখ্য তীর্থস্থান। পুণ্যভূমি ভারতের স্থাপত্যশিল্প শ্রেষ্ঠতা লাভ করেছে অগণ্য তীর্থপথের দেবমন্দিরে। এই তীর্থপথ যত দুর্গমই হোক, তারা আপন আপন মহিমায় চিরকাল ধরে মানুষকে আকর্ষণ করেছে। পুণ্যলাভের কামনায় মানুষ গিয়েছে বনে জঙ্গলে, ছুটেছে সমুদ্রপথে, ঝাঁপ দিয়েছে অনামা নদীর তুফান তরঙ্গে, পেরিয়ে গেছে দুঃসাধ্য মরুপ্রান্তর—জীবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করেছে পদে পদে। বাধা, ক্লান্তি, আত্মনিগ্রহ একদিকে—অন্যদিকে নৈরাশ্য, আতঙ্ক, ব্যাধি, বিকার—কিন্তু মানুষ ওদের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নি। দুর্লভের আকর্ষণ সকল বাধা বিপত্তির ভিতর দিয়ে তাকে টেনে নিয়ে গেছে।
ভারতের শিয়রে আবহমানকাল থেকে নগাধিরাজ হিমালয় যেন মহাযোগে আসীন। তাঁর ললাটের জটাজটিলতা থেকে নেমে এসেছে অগণ্য স্রোতস্বিনী—তারা যেন সেই দেবাদিদেবের আনন্দেরই ধারা। মহাযোগীর শিরশুড়া চিরতুষারে আবৃত, তাঁর অঙ্গের স্তবকে স্তবকে তীর্থমন্দিরগুলি মনিমাণিক্যের মতো জাজ্বল্যমান। ওদের মধ্যে বদরীনাথ, কেদারনাথ, তুঙ্গনাথ, মুক্তিনাথ, কৈলাসনাথ ইত্যাদির দর্শন কোটি কোটি নরনারীর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাম্য। ওদের ওই বিশালতার মহিমা মানুষকে যেন দেবলোক থেকে আহ্বান জানায়—সেই আহ্বান শুনে একদিন তীর্থযাত্রীর দল আত্মবিস্মৃত অস্থিরতায় ওই দুঃসাধ্য দুর্গম তীর্থের পথে বেরিয়ে পড়ে। সংসারের মায়া, স্বজনের মমতা, সম্পদের মোহ—সমস্তই তাদের পিছনে পড়ে থাকে।
একদিন হঠাৎ আমিও বেরিয়ে পড়েছিলাম ওই হিমালয়ের তীর্থপথে। আমার তখন বাসা ছিল হরিদ্বারে এবং বয়স ছিল কম। কিন্তু যাবার আগে আমার মনে ছিল জটিল প্রশ্ন, ছিল উদ্দীপনা, ছিল ভয়ভাবনা। হয়ত পরমার্থ লাভের অস্পষ্ট কোন জটিল চেতনাও তখন তরুণ মনে বাসা বেঁধেছিল, হয়ত বা সংশয়াচ্ছন্ন মন অজ্ঞানের অন্ধকারে কোথাও কিছু খুঁজে পাবার জন্যও এখানে ওখানে হাতড়ে ফিরেছিল। মনে পড়ে সেদিন চিত্তলোকে একটা প্রবল আলোড়ন ছিল।
নিজের ভিতরকার তাড়না আমাকে বার বার ছুটিয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে ভারত- পরিক্রমায়। সেতুবন্ধে, কোনারকে, সোয়েডাগন প্যাগোডায়, দ্বারকায়, অজন্ত লাণ্ডিখানায়—সেই পরিক্রমা কিন্তু শেষ হয়নি। সেই অন্তর-তাড়নাই বুঝি আমাকে নিয়ে চললো হৃষিকেশ ছাড়িয়ে দেবপ্রয়াগ পেরিয়ে। বাইরে হিমালয়ের অন্ত নিস্তব্ধ মহাশান্তি কিন্তু আমার মধ্যে নিগূঢ় অসন্তোষ আর অতৃপ্তি—আমার সন্ধানী মন ফিরছে পথে পথে।

Description

মহাপ্রস্থানের পথে
লেখক – প্রবোধকুমার স্যান্নাল

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “মহাপ্রস্থানের পথে”

Your email address will not be published. Required fields are marked *