Description
শতবার্ষিকী সংকলন – অবধূত
লেখক – অবধূত
প্রকাশন – অবধূত ও পরম্পরা
Original price was: ₹900.00.₹750.00Current price is: ₹750.00.
৷৷ অবধৌতিক ।।
‘অবধূত’ শব্দটির একটি বিশেষ অর্থ আছে। এঁর কোনও বর্ণাশ্রম নেই, এঁর কোনও নির্দিষ্ট ধর্মও নেই। ইনি সংসারাসক্তিহীন এক সন্ন্যাসী। ইনি ত্যাগও করেন আবার ভোগও করেন—অথচ কোনটিতেই আসক্ত নন—‘জলে নামবো জল ছড়াবো তবুও আমি জলকে ছোঁব না’ গোছের। ‘নাম’টি আমাদের কালিকানন্দ অবধূতের সঙ্গে বেশ মানানসই। বিয়ে করেছেন—একটা নয় দুটো (ঠিক কথাটা অবিশ্যি দু-বার বিয়ে হয়েছিল তাঁর বলছি সেসব কথা), পুত্রসন্তানও হয়েছিল। ঘরবাড়ি হয়েছিল আবার শ্মশানই তাঁর ঘরবাড়ি——রুদ্রচণ্ডীর মঠে জীবন কাটল, উদ্ধারণপুরের ঘাটেও। আবার পথটাই তাঁর ঘরবাড়ি—পাহাড়ে-পর্বতে-কন্দরে তাঁর আশ্রয়। সে-সব ঘরও একদিন বাহির হল। ঘর কৈনু বাহির বাহির কৈনু ঘর। পথিক আমি পথেই বাসা/আমার যেমনি যাওয়া তেমনি আসা।
জীবনটা থেকে পালাতে চান, পারেন না। ভৈরবীর বাঁধন আছে না। ভৈরবীটি কে গো? নামটা জানলে চমকে যেতে হয়। ‘দেনাপাওনা’র ষোড়শীও যে এককালে অলকা ছিল। ভৈরবী কালিকানন্দের ‘অলকা’নাম সরোজিনী : অবধূতের কমলিনী। অথচ কথা ছিল সুধাময়ীই ভৈরবী হবেন। হলেন একমাত্র সন্তানের জননী। নাঃ, বাবা বাবা করে আদর করা গেল না। তিনি যে পথিক-বাবা! আবার দেখি বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ। পোর্টট্রাস্টের চাকরি, কলেজে পড়া, (‘ধরে নিতে পারিস আমি একটা বি.এ.’) সবার আড়ালে দেশব্রতী। তা ওই দেশব্রতীই থেকে গেলেন। পুলিশ পিছু নিয়েছে— ভেক ধরে নে—ওতেই বেঁচে যাবি। অনাথ মুখুজ্জে আর প্রভাবতীর ছেলে—তিনের দশকে মাইনে তার তিনশো-ও টাকা—দুলালচন্দ্র মুখোপাধ্যায় হয়ে গেলেন সন্ন্যাসী। দেশে দেশে ঘোরা, দেশের নাড়ি জানা—সেও তো দেশব্রত এক ধরনের। সুস্থিরতার মধ্যে জীবনকে দেখা নয়—মৃত্যুর মাঝখান দিয়ে জীবনকে দেখা। মড়ার ছাইয়ের বিভূতি মেখে জীবনকে চাখা—এক অপার দর্শন ঘটে গেল।
ফক্কড়-লক্কড়-টিকড়ের এক অভাবিত জীবন। মরুতীর্থ হিংলাজের লেখক, সিনেমার দৌলতে নামডাক কম নয়, উদ্ধারণপুরের ঘাটকে মহাশ্মশান থেকে তীর্থে পরিণত করেছেন যিনি—সেই বিচিত্রকর্মা মানুষটির জীবনকথা আর তেমন করে জানলাম কই! ‘জাগরণ’ পত্রিকা সাম্প্রতিককালে তাঁকে নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেছেন—তবুও তাঁর জীবনের নানা পরত এখনও তো রহস্যময়তা থেকে আলোতে আসেনি। তাঁকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছি এহেন কালে নবলব্ধ সাহিত্য-মিত্র প্রবীর আচার্য মশায়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তিনি সন্ধান দিলেন অবধূতের এককালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বীরভূম জেলার কির্ণাহার স্কুলের প্রাক্তন প্রধানশিক্ষক রামশম্ভু গঙ্গোপাধ্যায় মশায়ের ডায়েরির। তাঁকে আমি চিনতাম আমার অগ্রজের শিক্ষক হিসেবে, আমিও তাঁরই মতো বীরভূমজ। গাঙ্গুলি স্যার ডায়েরি রাখতেন, তাতে অবধূতের নানা প্রসঙ্গ লেখা——বেশির ভাগই বাইরের মানুষের অজানা এবং সেকারণে লোমহর্ষক। স্যারের আত্মীয়বর্গ, অবধূতের স্বজনবর্গ, নানা সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রবীরবাবুরা একটা তুলকালাম কাণ্ড করে তুললেন। তার সঙ্গে যোগ হল রামশম্ভুস্যারের ডায়েরি। পায়ের নিচে একটা শক্ত জমি, জমিতে শস্যশামল দূর্বা, কিছু ঘাসফুল—তার বিছানো শ্যামল আস্তরণে বসে দীপ্রকলমে’ লেখা হয়ে গেল অবধূতের নানা প্রসঙ্গ। প্রবীরবাবু আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ—সপ্রাণ কালিকানন্দ অবধূতকে আপনারা সমুপস্থিত করে দিলেন। ওই ডায়েরি আর নানা প্রসঙ্গ নিয়ে একালের পাঠকের অজানা এবং অবশ্য জ্ঞাতব্য একটা সীমিত জীবনকথা—তাঁর উপন্যাসের চেয়ে কম আকর্ষক নয়—এখানে পরিবেশন করা গেল অবধৃত জন্মশতবর্ষের প্রাক্- লগ্নে, তাঁর এই স্মারকগ্রন্থের ভূমিকা রচনার অবকাশে।
Reviews
There are no reviews yet.